নাইন-এলিভেনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র মুসলমানবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করা হয়। টুইন-টওয়ারে ওই হামলা মুসলমানরাই চালিয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন ওসামা বিন লাদেন—বুশ প্রশাসন এই দাবি করে এবং যৌক্তিক প্রমাণাদি উপস্থিত করতে না পারলেও এই দাবিকেই সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়।

বিন লাদেনকে খোঁজার অজুহাতে ৭ই অক্টোবর আফগানিস্তানে ইঙ্গমার্কিন বিমান হামলা চালানো হয় এবং শুরু হয় মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী (মুসলমানবিরোধী?) যুদ্ধ। কিছু দিনের মধ্যে তালেবান সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশটি দখল করে নেয় তারা। আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তারা ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার ব্যয় করে। এছাড়া যুদ্ধের জন্য তাদের ব্যয় করতে হয় ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার (১০০০ বিলিয়নে এক ট্রিলিয়ন)। ‘অপারেশন এনডুরিং ফ্রিডম’ এখনও চলছে।

এই যুদ্ধে দেড় লাখেরও বেশি আফগান মুসলমান নিহত হয়। শরণার্থী হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয় ৬০ লাখ মানুষ। নিজ দেশে ভিটেমাটি ছাড়া হয় তার চেয়েও বেশি মানুষ। কিন্তু যে-উসামা বিন লাদেনকে ধরার জন্য আফগানিস্তানে তারা হামলা চালিয়েছিলো সেই বিন লাদেনকে বারাক ওবামার বাহিনী ২০১১ সালে পাকিস্তানে হত্যা করে।

এরপর ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র আছে সন্দেহ করে ইরাক আক্রমণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৪৩ দিনব্যাপী অনবরত বোমাবর্ষণের পর পতন ঘটে বাগদাদের। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামতে এই যুদ্ধের পরিণামে প্রাণ হারায় ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয় করতে হয় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। সরকার গঠিত হলেও সৈন্য, কন্ট্রাক্টর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিলিয়ে এখনও ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মার্কিন ইরাকে অবস্থান করছে।

কিন্তু যে-অজুহাতে ইরাকে ৯ বছর যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, লাখ লাখ মুসলমানকে হত্যা করেছে, সেই গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র পাওয়া যায় নি।

তারপর লিবিয়ার একনায়ক গাদ্দাফির বিরুদ্ধেও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ‘অপরাধ’ জাতিসংঘ কর্তৃক প্রমাণিত হওয়ার আগেই বাগদাদের মতো বোমা হামলা চালিয়ে ত্রিপোলিসহ অনেক এলাকাকে।

গাদ্দাফিসহ হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। গাদ্দাফিতে হত্যার পর লিবিয়ায় যে-অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, আজও তার অবসান ঘটে নি।

মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত ফ্রিডম পার্টি ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকা ও ইসরাইলের সাম্রাজ্যবাদী নীতি ব্যাহত হচ্ছিলো। তাই তারা ওখানে একটি নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়ে সেনাবহিনীর অভ্যুত্থান ঘটায়। মুসলিম ব্রাডারহুডের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করাসহ হাজার হাজার কর্মীকে হত্যা করে।

ইতোমধ্যে ফ্রিডম পার্টি ও ব্রাদারহুডের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন ও ইসরাইলি ইন্ধনে মিসরে যে-অন্তর্দ্বন্দ্ব ও হানাহানি সৃষ্টি হয়েছে তার শেষ কোথায় কেউ জানে না।

গত ২১ শে আগস্ট সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে নারী ও শিশুসহ প্রায় চৌদ্দশো মানুষকে হত্যা করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে যে বাশার আল আসাদ বিদ্রোহীদেন দমনে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ায় হামলার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ হন। ৩০ শে আগস্ট হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারে চৌদ্দশো মানুষ নিহত হয়েছে। আমরা এমন বিশ্ব মেনে নিতে পারি না যেখানে নারী, শিশু ও নিষ্পাপ মানুষ মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাসের শিকার হবে।’

সন্ত্রাসবিরোধী (মুসলমানবিরোধী?) যুদ্ধ

তার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ‘স্বৈরশাসকের গণবিধ্বংসী অস্ত্র প্রয়োগের বিষয়ে চোখ বন্ধ রাখলে ইতিহাস আমাদের সবার কঠোর বিচার করবে।’

তাঁরা এসব জনদরদপূর্ণ কথা-বার্তা বললেও নিশ্চয় জানেন, আশির দশকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এবং কুর্দি জাতি দমনে সাদ্দামকে বিষাক্ত গ্যাস প্রদান করে হত্যাযজ্ঞে মদদ দিয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, ষাট ও সত্তরের দশকে ভিয়েতনামে তারাই গণহত্যা চালিয়েছিলো।

এটা সত্য যে, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ তাঁর পিতা হাফিজ আল-আসাদের মতো অগণতান্ত্রিক পন্থায় স্বৈরশাসক ও একনায়ক হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন। ১৯৭০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত হাফিজ আল-আসাদ স্বৈরশাসন অব্যাহত রেখেছিলেন; তারপর একই কায়দায় ক্ষমতা ধরে রেখেছেন বাশার আল-আসাদ।

বার্থ পার্টি সমর্থিত বাশারের বামঘেঁষা সেকুলার সরকার মূলত একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত। তিনি গণতান্ত্রিক ও ইসলামি গণআন্দোলনের প্রতি নিষ্ঠুরভাবে খড়গহস্ত। তারপরও মধ্যপ্রাচ্যের অনেকেই তার সরকারের বিরোধিতা না করে সহমর্মিতা বোধ করেন এ-কারণে যে বাশার প্রচণ্ড ইসরাইলবিরোধী।

বাশার বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে কিনা তা নিয়ে নিরাপত্তাবিশ্লেষকদের বিভিন্ন মত রয়েছে এবং বারাক ওবামার যুদ্ধের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রাসায়নিক অস্ত্রের প্রয়োগ, শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার, মানবাধিকার লঙ্ঘন ইত্যাদি অভিযোগ সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশি হলেও বিদ্রোহীরা এ-ধরনের অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়। হত্যা, হামলা, অপহরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে দুই পক্ষই পরস্পরকে অভিযুক্ত করে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে; তাই তাদের কেউই এখন আর সন্দেহমুক্ত নয়।

রাসায়নিক কারা ব্যবহার করেছে তা সন্দেহাতীতভাবে নির্ণীত হওয়ার আগে সিরিয়ায় বারাক ওবামার মিসাইল হামলা চালানোর এবং প্রেসিডেন্ট বাশারকে শায়েস্তা করার নামে হাজার হাজার নর-নারী-শিশু হত্যার পরিকল্পনা সমর্থনযোগ্য ছিলো না।

আসলে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে ইরাক ও আফগানিস্তান দখল, লিবিয়ায় গাদ্দাফি সরকারকে উৎখাত করে নৈরাজ্য ও আরজকতা সৃষ্টি এবং পাকিস্তান ও ইয়েমেনে ড্রোন হামলা চালিয়ে, কার্যত সবকটি দেশকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে আমেরিকার আধিপত্যবাদী ক্ষুধা মেটে নি। এখন বাকি আছে সিরিয়া ও ইরান।

এই দুটি দেশকে কব্জা করতে পারলেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইলি খেল খতম। বাশার বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে—এই অভিযোগ যদি সত্যও হয়, তাহলে প্রথমে জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে বাশার সরকারকে এই অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত করা এবং কোনো ধরনের পিউনিটিভ (দণ্ডমূলক) ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই আরও ধ্বংসাত্মক মিসাইল হামলা চালানোর হুঙ্কার কেনো দিলেন শান্তিতে নোবেলবিজয়ী বারাক ওবামা। তিনি সাদা চামড়াঅলাদের কৃষ্ণাঙ্গ সেবক হলেও অন্য একটি দেশের জনগণকে রক্ষার নামে সেই দেশের জনগণের বর্বর সামরিক হামলা চালানোর অধিকার তাঁকে কে দিয়েছে?

ইতিহাস এ-কথার সাক্ষ্য দেয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতো বড়ো পরাশক্তিই হোক না কেনো তারা কখনও এককভাবে কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় নি। ওবামা তাই ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে (পরোক্ষভাবে ইসরাইল ও ‘ইসলামের রক্ষক’ হওয়ার দাবিদার সৌদি আরব) সিরিয়ায় হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধক্লান্ত ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত মার্কিন ও ব্রিটিশ জনমত। যুদ্ধবিরোধী বিরাট মিছিল হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছে এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সরকারের যুদ্ধে নামার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

ব্রিটেন যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে যাওয়ার পর নিজের মুখ রক্ষার জন্য ওবামা তাঁর আগেকরা প্রেসিডেন্ট বুশের মতো রণহুঙ্কার দিতে থাকলেও যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমতি চাইবেন এই অজুহাত তুলে সিরিয়ায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকেন। এই ফাঁকে তিনি জন কেরিকে লাগান সিরিয়ায় যেকোনো ধরনের হামলা চালানোর ব্যাপারে রাশিয়ার সম্মতি আদায়ের জন্য। রাশিয়া সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালানোর প্রচণ্ড বিরোধী

এই প্রেক্ষিতে ১৪ই সেপ্টেম্বর জেনেভায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ অনেক আলাপ-আলোচনার পর সিরীয় বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। এই সমঝোতায় বলা হয়, বাশার সরকারকে যৌথভাবে একটি চরমপত্র দেওয়া হবে যাতে এক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়া তার রাসায়নিক অস্ত্রের ঘাঁটিগুলোর সন্ধান দেয় এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকদলকে এই অস্ত্র সম্পর্কে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করতে সহযোগিতা জোগায়।

এই সমঝোতায় জন কেরি ছয়টি নির্দেশনা দেন :

  • ১. সিরিয়ার কাছে যে-ধরনের অস্ত্র যতোটুকুই আছে তা দ্রুত আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে;
  • ২. এক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়াকে রাসায়নিক অস্ত্র জমা দিতে হবে;
  • ৩. আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন অনুযায়ী দ্রুত সেগুলো ধ্বংস করতে হবে;
  • ৪. সব জায়গায় পরিদর্শকদের ভ্রমণের সুযোগ দিতে হবে;
  • ৫. সিরিয়ার আশপাশের অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য অপসারণযোগ্য সব রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করতে হবে;
  • ৬. জাতিসঙ্ঘ সনদের ধারা-৭ অনুযায়ী সিরিয়াকে সব ধরনের আইনগত সমর্থন দেওয়া হবে।

সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী ওমরান আজ-জাবি বলেছেন, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় সিরিয়ার বিজয় হয়েছে। তবে তিনি জানান, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে জাতিসঙ্ঘের অনুমোদন লাগবে। তিনি বলেন, সিরিয়া এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমাদের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার ব্যাপারে আমরা রুশ পরিকল্প মেনে নিয়েছি। বস্তুত আমরা আমাদের রাসায়নিক অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত করা কাজ শুরু করে দিয়েছি।

রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার এই সমঝোতার ফলাফল দাঁড়িয়েছে এই যে, সিরিয়া আসন্ন মার্কিন হামলা থেকে বেঁচে গেলো; ওবামা প্রশাসনের মুখ কিছুটা রক্ষা পেলো; কিন্তু সিরিয়াকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষার ব্যাপারে রুশ কূটনীতি সফল হলো; আমেরিকার যুদ্ধবাজ চক্র এবং ইসরাইল ও সৌদি বাদশাহর চাপ থেকেও ওবামা আপাতত মুক্ত হলেন।

দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ফলে যুদ্ধের ঢামাঢোল বন্ধ হলেও কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেকেই আশঙ্কা করেছেন এই সমঝোতা কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ অবস্থা বয়ে আনবে না।

তারা প্রশ্ন তুলেছেন :

১. সিরিয়ায় নিরস্ত্রীকরণের কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ হবে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি সে-সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে?

২. মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে আমেরিকার যে-পররাষ্ট্রনীতি তাতে দেখা যায় ক্ষমতায় একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে টিকিয়ে রেখে কোনো সমঝোতায় জট খোলে নি। যেমন ইরাকের সাদ্দাম হোসেন এবং লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি। বাশার সরকারকে টিকিয়ে রেখে সিরিয়ার ক্ষেত্রে কি এই জট খুলবে?

৩. আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্রের হিসাব, অবস্থান, মজুদ ও অস্ত্রের ধরন ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান ও জাতিসঙ্ঘের অস্ত্রপরিদর্শকদের সহযোগিতার কথা থাকলেও সিরিয়া যদি এ-ব্যাপারে দীর্ঘসূত্রতা আশ্রয় নেয় বা গড়িমসি করে তখন কী হবে?

৪. সিরিয়ায় অস্ত্রপরিদর্শক হিসেবে কারা থাকবেন সেটা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। পরিদর্শন দলে আমেরিকানদের সংখ্যা যদি বেশি থাকে তাহলে তা সিরিয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

৫. সিরিয়ার বিদ্রোহীরা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আক্রমণ অব্যাহত রাখলে অস্ত্র পরিদর্শন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে।

৬. দ্বিপাক্ষিক সমঝোতায় মূল এ্যাক্টর রাশিয়া ও আমেরিকা, এতে সিরিয়ার সরকার বা বিদ্রোহীদের অংশগ্রহণ নেই। সুতরাং সমঝোতার ব্যাপারে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে কী ঘটবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।


Author: আবদুস সাত্তার আইনী

Source: Natun Dak, 2014

Leave a comment

%d bloggers like this: