সময় এবং আমাদের উপলব্ধি

নিয়ম বা সাধারণ বাস্তবতা বলে আজকাল আর কিছু নেই পৃথিবীতে। সবই কেমন এলোমেলো, সবই কেমন অস্বাভাবিক। প্রযুক্তির খামখেয়ালি প্রয়োগের পাশাপাশি প্রকৃতিও এখন নিয়মিত ভাঙছে তার চিরকালীন শৃঙ্খলার কোড।

আমরা তাই শীতকালে হঠাৎ গরমে ঘামি আর গ্রীষ্মে কাঁপি হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে। সাগর-নদী এখন শুধু আর ধুয়ে-মুছে নয় ভাসিয়েও দিয়ে যায়, ফাটা-চৌচির বক্ষ নিয়ে হাহাকার ছড়িয়ে চলে জনপদের পর জনপদে।

সবমিলিয়ে অন্ধকার টানেলের মধ্য দিয়ে অজানা এক গন্তব্যের পথে অমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে।

Sakil books
My books & magazine

মানবজাতির এই ক্রান্তিকাল কবে শেষ হবে বা আদৌ শেষ হবে কিনা অনুমান করা মুশকিল। নিজের প্রয়োজন আর একটু ভালোর জন্য দশজনের ক্ষতি করা যদি ভুল না মনে হয়- এই দুঃসময় তাহলে কাটবে না। কারো ভোগ, কারো ভোগান্তি- এমন অমানবিক নিয়মেই চলছে-চালিত হচ্ছে আজকের পৃথিবী।

নিজের ভালো অন্যের ক্ষতি বা কারো ভোগ কারো ভোগান্তি- এই কথাটা যতো সহজে বলে ফেলা গেলো ব্যাপার কি ততো সহজেই শেষ হচ্ছে? ব্যক্তি, সমাজ, দেশ কিংবা বিশ্ব; সবক্ষেত্রেই এই কথাগুলোর সমান প্রয়োগ হতে পারে।

একটা সময় ছিলো, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা কিংবা প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতায় মানুষের ভাবাভাবি কেবল প্রতিবেশীদের মধ্যেই সীমিত ছিলো। সময় বদলালো। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটার সাথে সাথে মানুষের ভাবনার সীমাও বিস্তৃত হলো। আগে যে দশজনের কথা ভাবতো, এখন ভাবছে হাজারজনের কথা। আগে যে একজনকে ঠকাতো, এখন ঠকাচ্ছে হাজারজনকে।

একই ব্যাপার সমাজ এবং রাষ্ট্রের বেলায়ও, কিছু পরিভাষাই বদলায় কেবল। নয়তো- সুসভ্য ও সর্বাধুনিকের তকমা আঁটা উন্নততর এই বিশ্বেই মানবতা বা সাম্যের মতো ব্যাপারগুলোর স্থান কোথায়?

বড় রাষ্ট্রগুলো শক্তি এবং আখের গোছানোর প্রতিযোগিতায় প্রথমে নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছে। একসময় সেটা ছড়িয়ে দিয়েছে উন্নয়নশীল বা তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও। খেলাটা বিশ্বময় ছড়িয়ে গেলেও হিসেব অনুযায়ী খেলোয়াড় আর সুবিধাভোগী থেকে গেছে তারাই।

ধর্ম ব্যাপারটাই বা এখান থেকে বাদ থাকবে কেনো? একসময় ধর্মও এলো অবধারিতভাবে।

আর কিছু বুঝতে পারার আগেই ইসলাম একক প্রতিপক্ষ ও শত্রু হিসেবে দাঁড়িয়ে গেলো পৃথিবীর তাবৎ ধর্মমতের বিরুদ্ধে।

সংক্ষেপে- এ-ই হলো গোটা বিশ শতকের চূড়ান্ত খতিয়ান।

একবিংশ শতাব্দীটা মুসলিম জাতির জন্য যখন ঘোর অমানিশা নিয়ে হাজির হলো, বহু বর্ণের আড়ালে মূলত এক ধর্মের অনুসারী বাকি বিশ্ব তখন প্রস্তুতি নিলো আপাত অদৃশ্য সে শত্রুর বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক যুদ্ধের।

ইসলাম এখানে তাই আর শাশ্বত জীবনবিধান বা ধর্মও নয়, কেবল উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদের নাম। মুসলিম জাতি সন্ত্রাসী। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো সা¤্রাজ্যবাদী মোড়লদের নানারকম দরকারি-অদরকারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার উর্বর ক্ষেত্র।

আর মুসলমানদের অর্থ-সম্পদ নিজেদের ভাত-কাপড়ের মৌলিক অধিকার, সেবা, নিরাপত্তা বা উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নয়, কেবল যেনো ভিনদেশী অস্ত্র আমদানির কড়কড়ে ডলার।

ইসলামের ইতিহাসে বিংশ শতাব্দীটা যদি সূর্যাস্তের শেষ প্রহর হয়, সন্দেহ নেই একবিংশ শতাব্দীর শুরুটাই তাহলে অমাবশ্যার ঘোর লাগা সন্ধ্যার চেয়েও আঁধারে ঢাকা।

একজন মুসলিম হিসেবে আমার-আপনার ভাবনা, অবস্থান সেক্ষেত্রে কোথায়; পদক্ষেপই-বা কী – একবার ভেবেছেন?