Categories
Bangla Contents

ম্যাটার অফ জায়োনিজম: ট্রাম্পের মতিগতি নিয়ে খসড়া আলাপন… 

ট্রাম্প মূলত (একান্তই কিনা সেটা সময় বলবে) একজন ব্যবসায়ী, জাত ব্যবসায়ী যাকে বলে। কথাবার্তায় শব্দের চেয়ে অঙ্গভঙ্গির বেশি ব্যবহার নিয়ে আর যাই হোক, ভালো পলিটিশিয়ান হওয়া যায় না। আর একজন জাত ব্যবসায়ীর প্রধান যে কাজ বা পরিচিতি, ফোকাসটা নিজের দিকে রাখা- এখনো পর্যন্ত ট্রাম্প দারুণভাবেই সেটা করে যাচ্ছেন। এইটুকুর জন্য হাততালি তার অবশ্যই প্রাপ্য।

তবে ‘আগে জমাও পরে ঢালো’র বিজনেস থিওরি আর হুল্লোড়ময় রিং পরিচালনার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি যে দেশ চালাতে চাইছেন, সেটা তেমন কাজের না। লং লাস্টিং তো নয়ই। প্রাথমিক বলার ধরন বা আচরণে তিনি যা যা করতে বা করবেন বোঝাতে চাইছেন, এসব করার ক্ষমতাই আসলে তার নেই। (বিতর্ক বা উত্তেজনা ছড়ানোর বাইরে নতুন বা খুব বেশি কিছু তিনি অবশ্য এখনো বলেন নি, মনে হয় না বলবেন!)।

রাষ্ট্র আমেরিকার নীতি ও সিস্টেম এতো সিম্পল বা দুর্বল নয় যে এক ব্যক্তির হাতে এমন বিনাশী পাওয়ার দিয়ে রাখবে। সেরকম হলে যুক্তরাষ্ট্র সুপার পাওয়ারই হতে পারে না বা এতোদিন টেকে না।

এই সত্য এবং ট্রাম্পের ব্যবসায়ী ও ক্ষেপাটে উপস্থাপক চরিত্রের সূত্র বিবেচনায় রাখলে এক্ষেত্রে শংকিত হওয়ার কারণ আসলেই তেমন কিছু নেই।

ম্যাটার অফ জায়োনিজম

Judaism vs Zionism

ভাবনার ব্যাপার দ্বিতীয় সূত্রটা। ম্যাটার অফ জায়োনিজম তথা ইজরায়েলি লবির বাড়তি তৎপরতা। নির্বাচনের পুরো সময়টাতে রাষ্ট্র ইজরাইল ছিলো অবাকরকম নীরব। আর মিডিয়ার মতোই, কিছু উদার ইহুদিদের বরং ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে দেখা গেছে। নির্বাচনের পরপরই অবশ্য পুরো দৃশ্যপট বদলেও গেছে। ক্ষুদ্র সেই ইহুদি দলটি যতো নীরব, রাষ্ট্র ইজরাইল ততোটাই সরব।

নতুন বসতি নির্মাণের ঘোষণা বা জেরুসালেমে রাজধানী স্থানান্তরের তোড়জোড় কিংবা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হঠাৎ সামনে নিয়ে আসাসহ সব ব্যাপারেই রাষ্ট্র ইজরাইল ও ইহুদি লবিগুলো খুব সক্রিয়। হোয়াইট হাউজের মেঝেতে ছেলের হামাগুড়ির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেন ইভাঙ্কা, সঙ্গে সঙ্গে সেটা ইজরায়েলি পোর্টালগুলোতে এসে দারুণ শিরোনামের এক্সক্লুসিভ নিউজ হয়ে যায়।

প্রথম ইহুদি শিশুর হোয়াইট হাউজে হামাগুড়ির এই ছবিকে ওরা হলোকাস্টের পর তাৎপর্যময় যুগের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করা শুরু করে।

চান্স যদিও কম, এক্ষেত্রেও অবশ্য সান্ত¡না খোঁজার একটা সুরত আছে। ডেমোক্রেটিক পার্টি, ক্লিনটন পরিবার বা ভদ্র ওবামার সাথে ইহুদি লবির বনিবনার ঘাটতির সম্ভাবনা পাশ কাটিয়ে এটাকে বরং সুপার পাওয়ার একটা রাষ্ট্রের কৌশলি অবস্থান হিসেবেও ধরে নেয়া যায়। সুপার পাওয়ার হওয়া, সুবিধাভোগ ও বিশ্বশাসনের আল্টিমেট গোলটা ঠিক রেখে কখনো নরম কখনো গরম পলিসিতে পথচলা।

দু’দলের মধ্যে ৮ বছর করে বিগত মোট চারবারের ক্ষমতা ভাগাভাগির ধারায় এটাই রাষ্ট্র আমেরিকার পলিসি, হয়তো। বাড়তি এজেন্ডা ছিলো কেবল ইজরাইল, দ্রুত-মন্থর গতিতে সেটাও সামনে এগিয়েছে। এই ব্যাখ্যা উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ খুব একটা আছে কি?

ক্যাম্প ডেভিট চুক্তি

Israel-Palestine deal

তবে ক্যাম্প ডেভিট চুক্তির ব্যর্থতায় ক্লিনটন পরিবারের সাথে বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব, ওবামার ব্যক্তিগত মানবতাবাদী অবস্থান বা ডেমোক্রেটিক পার্টির ইজরাইল-প্রবলেম এড়িয়ে কৌশলগত আমেরিকান জাতীয়তাবাদী পলিসির সাথে ইহুদিদের ঐতিহ্যগত বিরোধ আমলে নিলে শংকিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। ওবামা প্রশাসনের প্রথম টার্মের লুকোচুরি আর শেষ টার্মের অনেকটা প্রকাশ্য বিরোধী অবস্থান ইজরাইলকে যথেষ্ট ভুগিয়েছে।

ক্ষেপাটে পাগলার মতো ওরা অপেক্ষায় ছিলো। হিলারির সাথে নিউইয়র্কের সেই নব্বইয়ের মেয়র নির্বাচন থেকেই শুরু হওয়া অবিশ্বাসের সম্পর্কের ব্যাপারে এবার ওরা আর রিস্ক নিতে চায় নি। মনোনয়ন পাওয়ার পরপর নির্বাচনের প্রায় একবছর আগেই ইজরাইল ঘুরে আসার টোটকা দিয়েও হিলারি এবার পানি পায় নি। এই হিসেবে অনেক কিছু ঘটারই চান্স আছে।

মধ্যপ্রাচ্য এলোমেলো হয়ে আছে। আরব বসন্তের পর বহুকিছু ঘটলেও ফাইনাল রেজাল্ট এখনো আলোয় আসে নি। আইএসের আড়ালে আসল খেলাকে বরং ছাইচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে ট্রাম্পের মতো একটা ক্যারেক্টারই দরকার ছিলো ইজরাইলের। ট্রাম্পকে সামনে রেখে জায়োনিজমের ক্ষেপাটে স্বপ্নদ্রষ্টারা সেই খেলায় মেতে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

একদিকে জাতীয়তাবাদ, নিরাপত্তা আর স্বনির্ভরতার আশ্চর্য ডাক এবং ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতিপক্ষ বানানো; অন্যদিকে মেয়ে আর জামাতাসহ ডজনখানেক ইহুদিকে হোয়াইট হাউজের ছায়ায় নিয়ে এসে ট্রাম্প নিজেই হাওয়ায় তা দিয়ে রাখছেন। সুতরাং ঘটতে পারে অনেক কিছুই।

নিজেদেরকে সতর্ক অবস্থানে রেখে এমনসব আশংকা নিয়েই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।

আমেরিকার প্রশ্নে ইহুদি লবি ও ইজরাইলকে এতোটা গুরুত্ব দেয়া নিয়ে যারা দ্বিধান্বিত, বলবো ইতিহাসের পাতায় আরো ভালো করে নজর রাখতে। আর পশ্চিমে জাতীয়তাবাদের আওয়াজ যেখানে যতোটা উচ্চকিত, ততোটাই বিবেচনায় থাকে মূলত ধর্ম।

ইসলামের সামনে দুর্বলতর ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে ওরা নাম দেয় জাতীয়তাবাদ। এইটাই আসল বাস্তবতা, ওদের অসহায়ত্বও।

সময় এখন জাগরণের…

(প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে, ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার ক’মাস পর লেখা এডিটোরিয়াল। বর্তমান বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখা যেতে পারে…)

Leave a Reply