Categories
মুফতি আমিনী রহ. ইসলাম

মুসলিম জীবনের ঘোষণাপত্র

অবিচার, নির্যাতন আর বাতিলের রীতি-নীতি ও আইন সর্বস্থানেই মানুষকে কোনঠাসা করে রেখেছে সন্ত্রাস ও দাপটের জোড়ে। অশ্লীল কর্মকান্ড নিরাপদ আশ্রয়ে দৃষ্টিকে সংরক্ষণের অবকাশ দিচ্ছে না। চিন্তা অনুভূতিকে দিচ্ছে না পালানোর সুযোগ। নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও ঘৃণ্য সন্ত্রাসের বাজার এখন উত্তপ্ত। প্রচার প্রকাশনার সমস্ত মাধ্যম-উপকরণ, বিনোদন ও সংস্কৃতির নাম বেঁচে বেঁচে চরিত্র হননের তাবৎ পথ উন্মুক্ত করেছে।

এ প্রজন্মের যুবকদের হৃদয়-মগজ ধোলাই করে খোদাভীতি ও আখেরাতের ফিকিরও মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি আল্লাহ-রাসূলের নামটি পর্যন্ত আজ মুছে ফেলার অপপ্রয়াস চলছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই সকল পরিস্থিতির চাহিদা কি এটাই যে, আমরা আমাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে একদম নিরাশ হয়ে বসে থাকবো? হাত-পা নাড়ানো বন্ধ করে দেবো? এবং এ যুগেও ইসলামী আইনের সফল কার্যকারিতা সম্পর্কে মুখ খুলতে লজ্জা পাবো?

মনে রাখতে হবে, অতীত বর্তমানের পরিস্থিতি যতোই ভয়াবহ হোক বা হতে থাকুক, আমরা যে দ্বীনের উপর ঈমান এনেছি, সে দ্বীনের দৃষ্টিতে হতাশা ও নৈরাশ্য রীতিমতো কুফরের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর অস্তিত্ব, তার পরিপূর্ণ কুদরত এবং তার সত্তা ও গুণাবলির উপর ঈমান রাখে, অন্ধকার থেকে ঘোর অন্ধকার অবস্থাতেও নৈরাশ্যের গহ্বরে পতন তার জন্য অসম্ভব।

মুসলিম জীবন, ইসলামী আইন

কেননা দ্বীনে ইসলামকে আল্লাহ আমাদের জন্য আইন ও বিধান হিসেবে মনোনীত করে ঘোষণা করেছেন- ‘আজ তোমাদের ধর্মকে আমি পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহকে পূর্ণাঙ্গ এবং তোমাদের জন্য ধর্ম হিসেবে মনোনীত করলাম ইসলামকে’।

তাহলে কি আল্লাহ পাকের এ সত্য জানা ছিলো না, এমন এক দুঃসময় আসন্ন, যাতে এই দ্বীনের বিধি-বিধানের উপর আমল এবং সে বিধানকে প্রতিষ্ঠা করা দুষ্কর? জানা কথা, আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রতি যে বিধান ও আইন অবতীর্ণ করেছেন, তা এই জ্ঞানসহই করেছেন যে, ভবিষ্যতে কী কী পরিস্থিতি আসবে এবং সেসব পরিস্থিতিতে দ্বীনী আইনের বাস্তবায়নের উপায় কী হবে।

উভয় জাহানের সরদার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজ্ঞতা ও ভ্রান্তির যে তমাশাচ্ছন্ন রাতে এ পৃথিবীতে পদার্পণ করেছেন, তা কোনো মানুষের কাছেই অস্পষ্ট নয়। বর্তমান থেকে সহস্রগুণ ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো সে সময়ে ইসলামী বিধানের উপর আমল করা। আল্লাহর নামটি নেওয়া ছিলো অপরাধ।

আল্লাহর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর ঘরে সিজদা দিতে গিয়ে পিঠে নাপাক ভুরির স্তুপ নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছিলো। নিছক পাথরের প্রভুত্বের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের অপরাধে সমগ্র জগতই তার রক্তপিয়াসী প্রাণের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলো। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো জীবন ধারণের তাবৎ উপায়-উপকরণের পথ পর্যন্ত।

তথাপি সারওয়ারে কায়েনাত হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার নিবেদিতপ্রাণ সাহাবায়ে কেরাম সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও ইসলামের উপর আমল করে দেখিয়েছেন এবং দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইসলামী আইনের প্রাধান্য।

আজকের পরিস্থিতির নাজুকতা যতোই গভীর হোক, ইসলাম ও ইসলামের আইনের উপর দৃঢ় থাকার সমস্যা ও ঝুঁকি নিশ্চয় ইসলামের প্রথম যুগের চেয়ে হাজার অংশে কম। আজ আমরা নামাজ রোজাসহ যাবতীয় ইবাদত অঞ্জাম দিতে পারি নির্বিঘেœ। কেউ বাধা দিতে পারে না। তাহলে কী এমন প্রতিবন্ধকতা এসে দাঁড়িয়েছে যে, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে আমাদের কণ্ঠ উচ্চারিত হতে পারছে না?

ইসলামী আইনের সফল কার্যকারিতা- মুসলিম জীবন

মনে রাখতে হবে, আজকের সব ধরনের নাজুকতার একটি মাত্র চিকিৎসা হলো ইসলাম ও ইসলামী আইন। মনগড়া বিধিবিধানের পৃথিবী ফুরিয়ে এসেছে, সংকীর্ণ হয়ে এসেছে তার অবস্থান ও বিস্তৃতির পরিসর, সাথে সাথে প্রশস্ত হচ্ছে ইসলামী আইনের সুসময় এবং উপযুক্ত সময়।

ইসলামী আইনের সার্বজনীনতা, কার্যকারিতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং তার সফলতা ও সুফলগুলোকে জাতির সামনে পরিচ্ছন্নভাবে তুলে ধরার এবং এই পবিত্র ও কল্যাণময় আইন প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি বলছে, এদেশ ঘুরে ফিরে একদিন ইসলামী আইনের দিকে আসবে। এ প্রসঙ্গে বুজুর্গানে দ্বীনের ভবিষ্যদ্বানীও রয়েছে।

আমি তো বরং আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে এতোদূর পর্যন্ত বলতে চাই যে, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশী সুধীবৃন্দ যদি শুধুমাত্র একদিনের জন্যও এক হয়ে যেতে পারেন, তবে সেদিনই এদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা হতে বাধ্য। কিন্তু নিতান্তই পরিতাপের বিষয় যে, ইসলামের শত্র“রা এই ভেদ উপলব্ধি করেই বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাদের মাঝে বিভেদের মহামারী ছড়িয়ে দিয়েছে এবং পরম উদাসিনতায় সে মহামারীর নিকৃষ্টতম শিকারে পরিণত হচ্ছি আমরা সবাই। সজাগ ও সতর্ক হওয়ার সময় এখনই।

মনদ্বন্দ্ব ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের চোরাগলির পথ পরিত্যাগ করে শাহাদাতের জান্নাতী অনুপ্রেরণায় এখনই সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে। একথা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় যে, ইসলামী আইন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ এক চিরন্তন ও শাশ্বত বিধান। দুনিয়ার যাবতীয় তন্ত্রমন্ত্রের সকল অপূর্ণতা ও দোষ ত্র“টি থেকে তা চিরমুক্ত ও চিরপবিত্র।

মুসলিম জীবন

এই ইসলামী আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ছাড়া পৃথিবীতে আদ্ল-ইনসাফ ও প্রকৃত শান্তির প্রত্যাশা কল্পনাবিলাস ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। কেননা ইসলামী আইন ও নীতিমালা মহাপ্রজ্ঞাময় সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা ও সূক্ষদর্শী রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত এক শাশ্বত পয়গাম। তথাকথিত কতিপয় বুদ্ধিজীবীর মস্তিষ্কপ্রসূত ধ্যানধারণা নয়।

কোনো সংসদ বা এসেম্বলী নিরূপিত কিংবা কোনো ক্বওমের দিকপাল ও নেতা নির্ধারিত নিষ্ফল কল্পনা বিন্যাসও নয়। এবং ইসলামী আইন পাশ হওয়ার জন্য কোনো সংসদের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সংসদই ইসলামী আইনের শরণাপন্ন হতে বাধ্য। মেজোরিটির মাধ্যমে যদি সংসদে এমন আইন পাশ হয় যা ইসলামের পরিপন্থী, তাহলে জনগণের উপর তা বাধ্যতামূলক হওয়াতো দূরের কথা, কোনো মুসলমানের পক্ষে সে আইন পালন করাই হবে না জায়েজ বা হারাম।

বরং এ হলো এমন এক সত্ত্বার পাঠানো পয়গাম, যিনি সবকিছু জানেন এবং সবকিছুর খবর রাখেন। যিনি সর্বকালের সর্বজাতির তথা গোটা বিশ্বের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা এবং যার সৃষ্টিনৈপুণ্য সকল অপূর্ণতা ও আবিলতা থেকে চিরমুক্ত। যিনি সমগ্র মানবজাতির প্রকৃত রোগ ও বাস্তব প্রয়োজন সম্পর্কে পূর্ণ অবগত। অবতরণের কাল থেকে শুরু করে মহাপ্রলয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি আগামী প্রজন্মের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত সে নীতিমালায় রয়েছে সমূহ কল্যাণ ও হিদায়াতের ফল্গুধারার পুঙ্খানুপুঙ্খ দিক নির্দেশনা।

কল্যাণ ও হিদায়াতের নূরে জ্যোতির্মান এই ইসলামী আইনের বিপক্ষে মানবরচিত কতোগুলো বস্তাপঁচা দিকদর্শনকে আইন বলে আখ্যা দেওয়াও হবে চরম নির্বুদ্ধিতা ও মারাত্মক ভুল। ন্যায় সঙ্গত ও ইনসাফভিত্তিক আইন কেবল তাই হতে পারে যা অবতারিত হয়েছে মানুষের সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে। যাতে রয়েছে মানুষের বুনিয়াদি অধিকার সংরক্ষণের পূর্ণ নিশ্চয়তা এবং মানবজীবনের সকল সমস্যার সুষ্ঠ সমাধান।

আল্লাহ প্রদত্ত এই আইনই দিতে পারে প্রকৃত আজাদী ও স্বাধীনতা। চির কাঙ্খিত আদ্ল-ইনসাফের এবং চির বঞ্চিত সুখ-শান্তির বিজয়বার্তা। মানুষকে দিতে পারে সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ববোধের আলোকসন্ধান এবং পরস্পর গড়ে তুলতে পারে প্রেম ও ভালোবাসাবোধের মহিমায় মহীয়ান এক জান্নাতী পরিবেশ।

ইসলামী আইনের সামগ্রিক ও সর্বব্যাপকতা মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। সুতরাং এমন আইনের পরিবর্তে মানবরচিত কোনো আইন তালাশ করার পেছনে কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। আল্লাহ প্রদত্ত আইনের জায়গায় যে ব্যক্তি মানবরচিত আইনকে স্থান দেয়, সে মূলত নিজের বিবেক বুদ্ধিকে আল্লাহর ইলমের উপর প্রাধান্য দিতে চায় এবং নিজের চিন্তাপ্রসূত মতামত ও ধ্যানধারণাকে আল্লাহর আইনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে যা কোনো মুসলমানের পক্ষে অকল্পনীয়।

ইসলামী আইন সম্পর্কে যাদের ধারণা খুবই সংকীর্ণ, সর্বোপরি আপন আপন যুগের জন্য ইসলামী আইনকে পাশ কাটিয়ে মনগড়া আইনকে যারা উপকারী ও উপযোগী মনে করে, ইসলামের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

বরং এ কথা বেশ জোড় দিয়ে বলা যায় যে, যারা ইসলামী আইন সম্পর্কে অসন্তোষ পোষণ করে, তাদের মাথায় হাজারো ইসলামী লকব বা উপাধি থাকলেও তারা ইসলাম এবং মুসলমানদের গণ্ডির আওতাভুক্ত নয়।

ইসলামী আইনের সর্বজনীনতা ও সর্বব্যাপীতা সম্পর্কে ইসলামী আইনবিদ হযরাতুল উস্তাদ আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরীর রহ. একটি যুগ সম্মত ও সর্বোত্তম বিশ্লেষণ এখানে তুলে ধরছি- ‘ইসলামের বিধানগুলো যেহেতু মানুষের রচিত নয় বরং সর্বজ্ঞ সর্বদর্শী ও অন্তর্জামী খোদার রচিত, কাজেই যে যে বিষয় মানুষের উন্নতির পরিবর্তন পরিবর্ধনে আবশ্যক, সে সে বিষয়ে মূলনীতিসমূহের পরিবর্তন ব্যতিরেকে শাখানীতি রচনার যথেষ্ট অবকাশ রাখা হয়েছে।

Islamic law, মুসলিম জীবনে

এবং যে যে বিষয়ে পরিবর্তনের কোনো আবশ্যকতা নেই, সে সে বিষয়কে সম্পূর্ণ অপরিবর্তনীয় রাখা হয়েছে। এ বিষয়টিকে নবী করীম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বুঝিয়েছেন- ‘আমাকে আল্লাহ তায়ালা যেমন ব্যাপক শরীয়ত দান করেছেন, ভাষাও তদ্রুপ ব্যাপকভাবে দান করেছেন’।…
যারা বলে ইসলামী আইন কেবল ইবাদত বন্দেগী এবং ব্যক্তি জীবনের ক্ষুদ্র পরিসরেই সীমাবদ্ধ।

রাজনীতি এবং প্রশাসনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের এই অন্তসারশূন্য উক্তির সাথে ইসলামের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। বরং তা পাশ্চাত্য থেকে আমদানিকৃত ধ্যান-ধারণা এবং পাশ্চাত্য শিক্ষা পদ্ধতির বিষাক্ত পরিণাম। যা আগামী প্রজন্মের মাঝেও বাতিল ধ্যান-ধারণা সৃষ্টির ভিতকে ইতোমধ্যে মজবুত করে ফেলেছে আমাদের অসতর্কতার সুযোগে।

এদের সুরেই সুর মিলিয়ে যারা বলে ধর্ম হলো ব্যক্তিগত ব্যাপার, রাজনীতি এবং প্রশাসনের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ধর্ম এবং রাজনীতি দু’টি আলাদা জিনিস। ধর্ম উন্নতি ও প্রগতির অন্তরায়। তাদের ধ্যান-ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি যে একেবারে অযৌক্তিক ও ভ্রান্তিপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমরা এসব কিছুর জবাবে শুধু বিনীতভাবে অনুরোধ করবো- দেখুন আপনাদের ভদ্রতার কাছে আমাদের দাবি, এসব অজ্ঞতাপূর্ণ উক্তি প্রত্যাহার করুন।

ইতিহাস সাক্ষী- আরব, ইরান, তুরস্ক, স্পেন, আফ্রিকা, হিন্দুস্তান ও আফগানিস্তান ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলো শাসিত হয়েছে এই ইসলামী নীতিমালা ও আইন কানূন অনুয়ায়ী। সেদিন মাটির পৃথিবীতে বসে মানুষ অনুভব করেছিলো বেহেস্তের সুখ ও শান্তি। সর্বোপরি রচিত হয়েছিলো বকরি-বাঘে এক ঘাটে পানি পান করার এক নজীরবিহীন বিস্ময়কর ইতিহাস।

এখনও যদি শান্তি ও নিরাপত্তার আকাঙ্খা আমাদের মনে জাগরুক থাকে, উভয় জাহানের কল্যাণের জন্য যদি আমরা প্রত্যাশী হই, তবে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প কোনো পন্থা নেই। আজ এই নরকসম পৃথিবীতে ইসলামই শুধু পারে জান্নাতী পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ইসলামী আইন বিধি ও শিক্ষা সংস্কৃতির উপকারিতা জনসমক্ষে হৃদয়গ্রাহী করে তুলে ধরা।

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘আর আপনি আপনার উপদেশ দেওয়াকে অব্যাহত রাখুন। আপনার উপদেশ তাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে’।

তাই ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বকে বর্তমান সময়ের চাহিদার সাথে মিল রক্ষা করে মানুষের সামনে পেশ করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ের চাহিদা মোতাবেক ইসলামকে কাঁটছাট করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। সে চেষ্টা যদি কেউ করতে যায় তবে তা ইসলামের তাহরীফ তথা বিকৃতি সাধনেরই নামান্তর হবে।

mufti amini

আজকের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সবাই সজাগ। পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র যার পতনের দিন ঘনিয়ে এসেছে কিংবা পতন হয়ে গেছে, পৃথিবীকে যে ক্ষতি ও সমস্যা উপহার দিয়েছে, তার একমাত্র ক্ষতিপূরণ ও সমাধান দিতে পারে শাশ্বত ও চিরস্থায়ী বিধান ইসলাম, সর্বকালের প্রযোজ্য বিধান যার মাঝে বিদ্যমান।

ইসলামই পারে ধ্বংস, পতন ও জাহান্নামের পথ থেকে টেনে তুলে মানুষকে উপহার দিতে স্বাধীনতা। অন্য কোনো আদর্শ-দর্শন ও বিধান তা দিতে পারেনি কোনোকালে, পারবেও না আর কোনো দিন।

(মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ.; দুই যুগ আগে প্রদত্ত একটি বক্তৃতার ভাবসংক্ষেপ)

Leave a Reply