ফিলিস্তিনি গল্প

ফিলিস্তিনের জন্য ভালোবাসা

কেমন আছে ফিলিস্তিন?

কেমন আছে ফিলিস্তিন? কেমন ছিলো যুগে যুগে? কোন পথে এগুচ্ছে আজকের ফিলিস্তিন?…আপনার মতোই, আমার মনের আকাশেও এমনসব প্রশ্ন হরহামেশা ঘুরে বেড়ায়। যেটুকু খবর, তারচেয়েও গভীর করে জানার জন্য অস্থির হয়ে থাকে। প্রশ্নে প্রশ্নে জেরবার করে তোলে, তবুও ক্লান্ত হয় না। ক্ষান্তি দেয় না। কেনো বলুন তো?

পৃথিবীর দুই শতাধিক দেশের একটি ফিলিস্তিন, আল আক্বসাও পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আল্লাহর অসংখ্য ঘরগুলোরই একটি; তারপরও ফিলিস্তিন-আল আক্বসার জন্য আমাদের এতো কিসের টান? কেনো উতলা হই ফিলিস্তিন-আল আক্বসার খবর সংগ্রহের জন্য?

ফিলিস্তিন-আল আক্বসার কথা মনে পড়লেই- প্রেমের বিভোরতা কিংবা শোকের দহন, গৌরবের মহিমা কিংবা পরাজয়ের গ্লানি, স্বপ্নের ঐশ্বর্য কিংবা অক্ষমতার বিভীষিকা- এমনসব সাংঘর্ষিক ভাবনা কেনো আমাদের ক্ষতবিক্ষত করে চলে?…

ইতিহাস আর সময় পাশাপাশি চলে। হাতে হাত রেখে তারা সামনে এগোয়। কাল যা ঘটলো আজ তা ইতিহাস। এই মুহূর্তে যা ঘটছে, কিছুক্ষণ পর তাও তো ইতিহাসই। সময় যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করে, ইতিহাসের মহিমায় সময়ও কখনো কখনো তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে। সৃষ্টির শুরু থেকে এভাবেই গলাগলি করে তাদের নিরন্তর পথচলা।

আল আক্বসা- কেমন আছে ফিলিস্তিন?
মূল আল আক্বসা মসজিদ

আর সংরক্ষণের মতোই, ইতিহাসের প্রয়োজনীয় অংশটুকু বেছে বের করাও বড় কঠিন কাজ। জটিল সে কাজটি আঞ্জাম দেওয়ার এই চেষ্টাটুকু করলাম কারণ, ইতিহাসের আমিও এক তৃষাতুর পাঠক। ভাসা ভাসা ধারণা নিয়ে জীবনের পথে এগিয়ে চলায় কোনো সাফল্য দেখি না। তৃপ্তিই কি মেলে?…

আল আক্বসা বা বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি যে প্রেম আমাদের আবেগে ভাসায়, একই প্রেম তো মুক্তির আর্তনাদও করে যাচ্ছে প্রায় একশ বছর ধরে। পুরোটা না জানলে একজন উমর বা সালাহুদ্দীন আইয়ূবী কেনো তৈরি হবে? কীভাবে হবে?

আবার ফিলিস্তিনিদের লড়াইটাকেও সরাসরি ইসলামের বা আল আক্বসার মুক্তির লড়াই হিসেবে মেনে নিলে বাস্তবতাকে খুব বেশি উপেক্ষা করা হয়ে যায় না?…আপনার মত এমন হোক বা বিপরীত, ইতিহাসের তাতে কোনো পরোয়া নেই। সহজ সিদ্ধান্তে যাবার আগে একবার চলুন সে ইতিহাসের আকাশে কিছুক্ষণ ডানা ঝাপটে আসি!

খৃস্টপূর্ব দুই হাজার অব্দ থেকে শুরু করে এই সেদিন পাওয়া জাতিসংঘের স্বীকৃতি, হযরত আদম আলাইহিস সালামের পবিত্র হাতের সূচনা থেকে নিয়ে আজকের জর্ডানের তত্ত্বাবধান পর্যন্ত ফিলিস্তিন আর আল আক্বসার ইতিহাস খুব সংক্ষেপে, খুবই সরল ভাষায় এই বইয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

সমজাতীয় বা অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো উপেক্ষার পাশাপাশি গুরুত্ববহ বিষয়গুলো জায়গা পেয়েছে যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারেই। মনোযোগে চিড় ধরার আগেই ইতিহাসের শুষ্ক মরুদ্যান পেরিয়ে গল্পের সবুজ প্রান্তরে আপনার পদার্পন ঘটবে, ইতিহাস আর গল্পের এবারের এই মিলিত উপস্থাপনায় আপনাকে স্বাগত ।…
-শাকিল আদনান

সূচিসংক্ষেপ:

 যুগে যুগে ফিলিস্তিন
-ইসলামপূর্ব ফিলিস্তিনের ইতিহাস
-১-৯৯৯ খৃস্টাব্দ এবং ইসলামি যুগের সূচনা
-১০০০-১৮৯৯ খৃস্টাব্দ : ক্রুসেডের চ্যালেঞ্জ এবং মুসলিম শাসন
-ষোল-উনিশ শতক : উসমানি খিলাফাহ
-১৯৪৮ : ফিলিস্তিনের কফিনে শেষ পেরেক

 প্রতিরোধ
-ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও) এবং ইয়াসির আরাফাত
-ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার মূর্তপ্রতীক হামাস

 ইনতিফাদা এবং রাজনৈতিক অর্জন
-ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের স্বীকৃতি, স্বীকৃতির তাৎপয
-ফিলিস্তিনের পাশে বাংলাদেশ

 কালজয়ী দুই আলেমের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ
-সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি
-মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি

 গল্পে গল্পে ফিলিস্তিন
-মরুর আশ্রয়
-বায়তুল মুকাদ্দাস বলছি…

 রক্তে লেখা ইতিহাস
-ফিলিস্তিনের কিশোর-কিশোরীদের লেখা ৯টি ডায়রি এবং দারুণ ১টি আরবি গল্পের অনুবাদ

ফিলিস্তিনি গল্প

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *