Categories
Bangla Contents History

কোন পথে ইউরোপের ইসলাম

কেনো ইউরোপের আলোচনা

মুসলিম উম্মাহর সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে আলোচনার প্রথমদিকে ইউরোপকে নিয়ে আসাটাই প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। উম্মাহ নিয়ে আমাদের ভাবাভাবিটা সাধারণ কয়েকটি ফরম্যাটে বিন্যস্ত।

একদিকে উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার ও যুদ্ধাক্রান্ত মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ এবং এর বাইরে ন্যাটোভুক্ত ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো। বিশেষ কারণ ছাড়া এই বিন্যাসকে অবশ্য উপেক্ষা করারও উপায় নেই।

ইউরোপ-আমেরিকার প্রায় এক হয়ে যাওয়া এই মিলটা যে বিবেচনায়, সেটা ঠিক থেকেও সাম্প্রতিক নানা কারণে ইউরোপ আলোচনায় উঠে এসেছে একদম স্বতন্ত্রভাবে।

ঝিমিয়ে পড়া আরব বসন্ত থেকে দুরন্ত আইএস, জেগে উঠতে থাকা তুরষ্ক থেকে ইউক্রেন হয়ে রাশিয়া, সাপ্তাহিক ব্যাঙ্গ ম্যাগাজিন শার্লি এবদোয় দুই মুসলিম সহোদরের হামলা থেকে নিয়ে পরবর্তী কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ এবং সবশেষে এই নভেম্বরে প্যারিসের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ইউরোপকে সামনে নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ আলাদা মহিমায়।

মুসলিম হালচাল নিয়ে এই মুহূর্তের ব্যবচ্ছেদে তাই ইউরোপেরই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। আমরাও তাই ইউরোপের আলোচনাটাই প্রথমে নিয়ে এলাম।

ইউরোপীয় তরুণদের ভাবনা

সেদিন ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর এক পরিসংখ্যান ঘাটতে গিয়ে বিশেষ একটি মন্তব্য পেলাম। পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান হার দেখে বিরক্ত এনোনিমাস ছদ্মনামের খৃষ্টান যুবক চমৎকার ভাষায় একটা দাবি তুলে ধরেছে। তার কথা-

‘মুসলিমরা পশ্চিমা সমাজে বসবাসের উপযুক্ত নয়।’ অনেক কারণের মধ্যে তার কাছে মূল কারণ হলো- সাংস্কৃতিক বৈষম্য। ‘পশ্চিমারা ‘ফ্রি মাইন্ড এন্ড ওপেন লাইফ’- তথা উদার মন ও উন্মুক্তধারার জীবনযাপনে অভ্যস্ত। (উদারতা, খোলামেলা কিংবা উন্মুক্ত শব্দ দিয়ে তো আর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা যায় না, বাস্তবতাটা অনুমান করে নিন…)। মুসলিমেরা ঠিক এর বিপরীত। গোঁড়া। মসজিদে মসজিদে ছোটে, দাড়ি রাখে, বোরকা পরে। প্রতিবেশী কারো সাথে বন্ধুত্ব করে না, মেশে না । প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কথা বলে না, এমনকি ফিরেও তাকায় না। সুতরাং পশ্চিমে মুসলিমদের অভিবাসন তো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যারা আছে তারা হয়তো এখানকার নিয়মে অভ্যস্ত হবে, নয়তো কোনো মুসলিমদেশে চলে যাবে।’ তার ভাষায়- ‘কেনোই-বা সেটা করা হবে না- মুসলিমরা যেমন পশ্চিমে এসে দাড়ি রাখে, বোরকা পরে এবং নিজেদের ধর্মীয় গোঁড়ামি পুরোপুরি ফলো করতে চায়, আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন যে কোনো মুসলিমদেশে বা সাধারণ মুসলিম কমিউনিটিতে গিয়ে পশ্চিমের কোনো লোক চার্চে দৌড়াবে, হাফপ্যান্ট পরবে কিংবা পশ্চিমের কোনো নারী বিকিনি পরে ঘুরবে আর মুসলিমরা চুপচাপ বসে থাকবে? আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন? সুতরাং তারা যেটা পারবে না সেটা আমাদের কেনো করতে হবে?’…

আরো অনেক কমেন্টের মধ্যে এটিকেই আমি কোট করলাম কারণ, এটাই বেশিরভাগ পশ্চিমা তরুণ-তরুণীর মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই পরিসংখ্যানে ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনসংখ্যার পাশাপাশি ইউরোপের কোন্ দেশের মানুষেরা মুসলিমদের কেমন দৃষ্টিতে দেখে তারও একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। গড় হিসেবে ৩০-৪০% ইউরোপিয়ান মুসলিম অভিবাসনকে মোটেও ভালো চোখে দেখে না। অনেক মন্তব্যকারীর আপত্তি এখানেই। তাদের মতে বেশিরভাগ এবং প্রায় সবাই মুসলিম অভিবাসন অপছন্দ করে।

ক’দিন আগে পুরনো সে রিপোর্টে একজন তো আগ বাড়িয়ে প্রশ্ন করে বসেছেন- ‘শার্লি এবদোতে হামলার পরও কি গবেষকগণ মনে করেন যে মাত্র ৩০-৪০% ইউরোপিয়ান মুসলিমদের অপছন্দ করে?…সেটা কিছুতেই সত্য নয় এবং প্রায় সবাই এখন মুসলিমদের অপছন্দ শুধু নয়, ঘৃণা করে।’ এগুলো সব ইউরোপীয়দেরই মন্তব্য, আপনি তাই চাইলেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা দুয়েকজন ব্যতিক্রম হতেই পারে বলে এসবকে উপেক্ষা করতে পারেন না। তাদের কেউ কেউ অবশ্য কিছুটা নমনীয়। তবে তাদের সংখ্যা প্রত্যাশিতভাবেই অপ্রতুল। খুব অপ্রতুল।

এর বাইরে সাধারণ অনেকেই ইসলাম এবং মুসলিম ইস্যুটিকে নিজেদের স্বাভাবিক জীবন চলার পথে ¯্রফে একটা ঝামেলা মনে করে। উটকো ঝামেলা।

বিশেষ একটি পরিসংখ্যান

দীন ওবাইদুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ পরিচিত মুখ, নাট্যকার ও কমেডিয়ান। কিছুদিন আগে ডেইলি বীস্টের এক কলামে এই মুসলিম টিভি-ব্যক্তিত্ব শিরোনাম করেছেন- ‘সকল সন্ত্রাসীই কি মুসলিম?…ব্যাপার কিন্তু এখানেই শেষ নয়’… প্রশ্নে শিরোনাম করে তিনি আলোচনা শুরু করেছেন পাঠকদের প্রতি আরও একটি প্রশ্ন রেখে। ‘যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে সংঘটিত কতো পার্সেন্ট সন্ত্রাসী হামলা মুসলিমদের দ্বারা হয়েছে?…

মনে করার চেষ্টা করুন। থেমে যাবেন না, আরেকবার ভাবুন। আরো ভাবুন। ‘সকল মুসলিম সন্ত্রাসী নয়, তবে সব সন্ত্রাসীই মুসলিম’ এই কথাটা আপনি কতোবার শুনেছেন অনুমান করতে পারেন? এই সেদিন ফক্স নিউজের এক সাংবাদিক আমাকেও এটি জিজ্ঞেস করলেন। যাক সেটা হয়তো অন্য ব্যাপার। তবে এ প্রশ্নের পরই একটি সম্পূরক প্রশ্ন আসে- আমরা কেনো খৃষ্টান, বৌদ্ধ, জায়নবাদী বা ইহুদি সন্ত্রাসী দেখতে পাই না?

স্বীকার করতেই হবে- এখানে কিছু মানুষ আছে, যারা ইসলামের নামে সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছে। তার ভাষায়- আমরা মুসলিমরা কিছুতেই মনে করি না যে এটা ইসলামের জন্য হচ্ছে বা তাতে ইসলামের কোনো পার্ট আছে। সেখানে যা আছে তা একান্তই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত কোনো স্বার্থসিদ্ধি বা এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা। তবে আমরা এটুকু স্বীকার করি যে, হ্যাঁ- ধর্মের বিচারে তারা মুসলিমই।

যাই হোক, এই তথ্য বা আমার কথার ধরনে আপনি অবাক হতে পারেন। ভাবার জন্য প্রয়োজনে একটু বিরতি দিয়ে নিন। আমি এই ফাঁকে একটা তথ্য দিচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে যেসব সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে এর সাথে জড়িতরা মুসলিম নয়। আপনি এ বিষয়ে সজাগ না হলে সেটা আপনার ভুল নয়। এজন্য আপনি বরং মিডিয়াকে দায়ী করতে পারেন। (মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী এবং আলাসকা অঙ্গরাজ্যের ৯ম গভর্নর) সারাহ পলিনের সাথে এক্ষেত্রে আমিও একমত যে,

‘মূলধারার মিডিয়াগুলো কর্তব্য পালনের চেয়ে আসলে বিশেষ কিছু ব্যক্তি বা শ্রেণীর লেহন-চোষণেই বেশি ব্যস্ত।’

এখানে আগ্রহীদের জন্য কিছু পরিসংখ্যান আছে। ইউরোপ দিয়েই শুরু করি। গত পাঁচ বছরে ইউরোপে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাগুলোতে মুসলিমদের জড়িত থাকার পার্সেন্টেজ কতো?… সেটা আপনি যা অনুমান করছেন তারচেয়েও কম- মাত্র দুই পার্সেন্ট। শুধু ২০১৩ সালে ইউরোপে ১৫২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে মাত্র দুটো ছিলো ধর্মের দ্বারা প্ররোচিত। অন্যান্য সব হামলার সাথে জড়িতরা প্রায় সবাই স্থানীয় কোনো না কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্য। আছে নানান মতবাদের এবং ধর্মের দলও। তবে দিনশেষে নাম কিনা সব ইসলামের!’…

এরপর তিনি সেই পুরনো পথেই হেঁটেছেন। বিভিন্নরকম তথ্য দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন মুসলিম সন্ত্রাস মূলত সমস্যা নয়, সমস্যা অন্যকোথাও। ইসলামী সন্ত্রাস মিডিয়ার বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়। এবং বিশ্বজুড়ে খৃষ্টান, বৌদ্ধ এবং জায়নবাদী বা ইহুদি সন্ত্রাসী গ্রুপের তালিকা ও তথ্য তুলে ধরে দেখাতে চেয়েছেন মুসলিমদের চেয়ে ওরা পিছিয়ে নয়, ঢের এগিয়ে। তবুও তাদের নিয়ে কোথাও কোনো কথা নেই। দীন ওবাইদুল্লাহর কলাম থেকে প্রথম অংশটা এখানে তুলে ধরার উদ্দেশ্য তার কথা আর উপস্থাপনার ধরনটা লক্ষ্য করা। সাথে সাথে আপনি মুসলিম ইস্যু নিয়ে পশ্চিমাদের চিন্তাধারার মৌলিক দিক সম্পর্কেও ভালো একটা ধারণা পেয়ে যাবেন।

ইউরোপীয় মুসলিমদের প্রকৃত অবস্থা

বেশ কিছুদিন আগে ইউরএকটিভডটকমে মানবাধিকারকর্মী এবং আলোচক এলসা রায় সাহসী একটি কলাম লিখেছেন। শিরোনাম করেছেন- ‘এখনই সময় ইউরোপে ইসলামভীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার’। তাঁর সূচনাটা দেখুন-

একটি দেশের কথা কল্পনা করুন- যেখানে মুসলিম নারীরা রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার অধিকার রাখেন না, রাস্তায় প্রহারের শিকার হন। যেখানে দাড়িওয়ালা মুসলিম পুরুষেরা মেট্রো রেলে সিট নিতে গেলে অপমানিত হন। এমন একটি দেশের কথা কল্পনা করুন- যেখানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে একটি করে মসজিদ ভাঙা হচ্ছে, প্রতি মাসে মুসলিম মৃতদের কবর গুড়িয়ে দেয়ার খবর বেরুচ্ছে।

এবার কল্পনা করুন, অন্যকোথাও নয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ঘটনাগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোরই কোনো-না-কোনোটাতে ঘটছে।

২০১৩ সালে শুধু ফ্রান্সেই ইসলামোফোবিক ৬৯১ টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেটি আগের বছরের তুলনায় ৪৭% বেশি। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মুসলিম নারীরাই ভিকটিম হয়েছেন প্রায় ৭৮% ঘটনায়।

যুক্তরাজ্যের মেট্্েরাপলিটন পুলিস ২০১৩ সালে তাদের কাছে মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মোট ৫০০টি হয়রানি ও নির্যাতনমূলক ঘটনার রেকর্ড জমা পড়ার কথা জানিয়েছে।

এলসার ভাষায়- পরিস্থিতি এখনই জটিল রূপ ধারণ করেছে এবং সেটা উত্তোরোত্তর বেড়েই চলেছে। এখানে ইউরোপজুড়ে কোনো জরিপ নয় শুধুমাত্র বিভিন্ন জায়গায় জমা পড়া অভিযোগগুলোর সমন্বয় করা হয়েছে মাত্র। রাজনৈতিকভাবেও এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্চ নেই বা হয়নি।

২০০৯ সালে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ‘মৌলিক অধিকার এজেন্সি’ একটি রিপোর্ট পেশ করেছিলো যাতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘটা বৈষম্য ও হয়রানিমূলক আচরণের একটা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাতে দেখা যায় সেসময়ই প্রতি তিনজন মুসলিমের একজন জানিয়েছেন তারা ডিসক্রিমিনেশন বা বৈষম্যের শিকার। সন্দেহ নেই এখনকার চিত্র তার চেয়ে ভয়াবহ।

২০১৪ সালটি ছিলো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচনের বছর। এসময় ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনের কৌশল হিসেবে কেউ যেমন মুসলিম ভোটার টানার জন্য একপ্রকার করুণার আশ্রয় নিয়েছেন তেমনি ডানপন্থী অনেক নেতাই বিশেষত তরুণদের ভোট আকর্ষণের জন্য সরাসরি মুসলিম অভিবাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

সবমিলিয়ে ইউরোপে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি অতীতের যে কোনো সময়ের সীমা ছাড়িয়েছে।…

তিনটি বক্তব্য একটি হিসেব

উপরিউক্ত তিনটি বক্তব্যই স্বতন্ত্র দৃষ্টিকোণ তুলে ধরার দাবি রাখে, সুতো বা শেকড় যদিও একটাই। খুবই সতর্কতার সাথে এই তিনটি বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার প্রতিটিই বেশ পুরনো। অন্তত এই জানুয়ারিতে ফ্রান্সের সাপ্তাহিক ব্যাঙ্গ ম্যাগাজিন শার্লি এবদোর অফিসে দুই মুসলিম সহোদরের হামলার আগের তো অবশ্যই।

পত্রিকা অফিসের ১১ জন সাংবাদিক এবং শপিংমলে অপর এক হামলায় আরো ৫ জনসহ মোট ১৬ জন ইউরোপীয় নাগরিক নিহত হবার পর পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছে কিংবা মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপঘেষা কয়েকটি আফ্রিকান রাষ্ট্রে সম্প্রতি আইএসের ব্যানারে নানারকম কা- তাতে কতোটা হাওয়া দিচ্ছে সেটি অনুমান করা মুশকিল নয়। তবে সেসবকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে তথ্যে তথ্যে পৃষ্ঠা ভরে ফেলা সহজ হলেও তাতে মূল ব্যাপারটাকেই এড়ানো হবে। বিশেষ পরিস্থিতির বিবরণ কখনো মূল বা সার্বিক অবস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না।

আমাদের উদ্দেশ্য সমাধান করা নয়, সেটা সম্ভবও নয়। ঘটনার পূর্বাপর বিবেচনায় প্রকৃত যে চিত্র সামনে আসে সেটা এড়িয়ে গেলে তো অন্যায়ই করা হবে।

নীতির প্রতি যেমন, স্থানীয় মুসলিমদের প্রতি আরো বেশি। তাই বিশেষ বা কেবল আজকালের অবস্থার বদলে আমরা এখানে সামগ্রিক বাস্তবতার দিকেই ফোকাস করতে চাচ্ছি।

এই মুহূর্তে ইউরোপীয় মুসলিমরা কেমন আছেন, কোন দিকে মোড় নিচ্ছে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সেটা জানা দরকার। তবে নিঃসন্দেহে তা বিশদ আলোচনার দাবি রাখে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে সবমিলিয়ে প্রায় ত্রিশটি রাষ্ট্র আছে। বিগত তিন-চার দশকে স্থানীয় মুসলিম, মুসলিম অভিবাসী, সাথে নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করা ইউরোপীয় মিলিয়ে দ্রুতই বাড়ছে ইউরোপের মুসলিম জনসংখ্যা। ইউরোপভুক্ত জেগে ওঠতে থাকা তুরষ্ক এক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

সেইসাথে পুরনো তরবারিতে শান দিয়ে খেলা শুরুর ডেডলাইন ঘোষণা আগেভাগেই দিয়ে রেখেছে খৃষ্টান সাম্রাজ্যবাদও। ব্যাপারটাতে তাই আবেগের কোনো জায়গা নেই।

শার্লি এবদো

শার্লি এবদোয় হামলার ঘটনা এবং সম্প্রতি ইউরোপীয় মুসলিম তরুণ এমনকি তরুণীদেরও আইএসে যোগদানের ব্যাপারগুলো কেবল নবীজীর সা. অপমানের প্রতিশোধ, জিহাদী ভাবধারা বা খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে আটকে থাকছে না।

উসকে দিচ্ছে আরো নানান ব্যাপারও, যার শেষটায় আপাতদৃষ্টিতে ইসলাম আর মুসলিমদের জন্য ভালো কিছু নেই।

সামনের আলোচনায় আমরা সেদিকেই ফোকাস করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। ফ্রান্স দিয়েই শুরু হবে আমাদের আলোচনা।


[Sakil Adnan, Monthly Neyamat, 2015]

Leave a Reply