Categories
Bangla Contents

ইজরাইল হওয়ার পথে চীন: উইঘুর মুসলিমদের ভাগ্যাকাশে নতুন বিপর্যয়

রোহিঙ্গা-ইস্যুর তখনো কোনো সমাধান আসেনি। যেমন নেই এখনো। আসামের এনওসি বিতর্কে ভারত যখন উত্তাল, তার আগে জাতিসংঘ হঠাৎ জানালো জিনজিয়াংয়ে চীন ১০ লাখের বেশি মুসলিমদের আটকে রেখেছে। মাঝে কিছুদিন শ্রীলংকার মুসলিমদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেলো। নিজের মতো করে চীন যখন উইঘুর মুসলিম ইস্যুটি চাপা দিতে সক্ষম হলো। খবর এলো নতুন করে ফিলিস্তিনে ইজরাইলের হামলে পড়ার। এদিকে আফগান-কাশ্মীর হয়ে ইয়েমেন ও সিরিয়ার অভিশপ্ত হাল তো চলছেই।

উম্মাহর হাল নিয়ে লিখতে বসলে ইদানীং কলম-কী-বোর্ড চলতে চায় না। প্রিয়জনদের, রাহবার মনে করা চারপাশের লোকদের যখন ইচ্ছে করে ভুল পথে পা বাড়াতে দেখি- মন তখন আরো ভেঙে যায়। কোথাও বিপর্যয় এড়ানো যাচ্ছে না। আমরা আবার দৌড়ে চলেছি সেই বিপর্যয়েরই দিকে। আসছে দিনগুলোয় আর কী কী অপেক্ষা করছে উম্মাহর তাকদিরে?

আমার সাধারণত এমন হয় না। লিখতে বসে এবার বেশ ক’বার ভাবনা বদলাতে হয়েছে। আবেগ আর ভুল পারসেপশন আমাদের সিদ্ধান্তগুলোকে অনেকক্ষেত্রেই ভুল পথে পরিচালিত করে। ইসলামের প্রশ্নে আজকাল চারপাশের বড় সমস্যাটাই হচ্ছে আমরা যে যেটুকু জানি সে আলোকে বাকি ইসলামটুকু কল্পনা করে নিই।

কারো মধ্যে এখন তাই আর মানার বা তলিয়ে দেখার চর্চা নেই। সবাই শুধু সিদ্ধান্ত দিই। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়ে বসে থাকি। ডালপালা ছড়ায় শুধু মতবিরোধ আর বিতর্ক। বিতর্কও তো শুধু বিতর্কে থেমে থাকে না, দ্রুতই সংঘাতের পথে এগোয়।

খন্ডিত ইসলামের ঝান্ডা নিয়ে আমরা সবাই নেতৃত্বের মহড়া দিতে শুরু করি। দরদ-ভ্রাতৃত্ব-কান্নার বদলে দ্বেষ-শত্রুতা-ঘৃণার কালোমেঘে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে। তবু আমাদের ক্লান্তি নেই, ক্ষান্তি নেই। কোন্ ইসলামের আদর্শ নিয়ে আজকাল আমরা সামনে এগুতে চাইছি?

ইজরাইল হওয়ার পথে চীন

উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে প্রচুর তথ্য ঘাঁটলাম। চীনে এমনিতেই সংবাদমাধ্যমগুলো পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত। উইঘুর মুসলিমদের প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে এই বিধিনিষেধ আরো কঠোরভাবে অনুসৃত হয়। টুকটাক ব্যতিক্রম ছাড়া পৃথিবীবাসীর জানারই উপায় নেই চীনে কখন কী হচ্ছে। বাণিজ্য ও আধিপত্যের দৃশ্যমান লড়াইয়ে বাকিসব ঢাকা পড়ে যেতে থাকে। অনেক আগে শুরু হলেও ১/১১’র পর পুরো মুসলিম কমিউনিটি বিশেষত জিনজিয়াংয়ে চীন গোপন যে দমন-পীড়ন শুরু করেছিলো, কখনো তা বন্ধ হয় নি।

তিন-নয় বা বার-তের সালের ছোট-বড় কয়েকটি তথাকথিত দাঙ্গার আড়ালে টার্গেটের অনেক কিছুই পূরণ করে ফেলেছে চীন। রি-এডুকেশন সেন্টারে আটক করে জঙ্গীবাদবিরোধী সংস্কৃতি-শিক্ষার নামে এখন চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের অভিযান। নিজেদের সংখ্যাগত আধিক্য তো বটেই, উইঘুর মুসলিমদের সংসার বা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবই এখন বিপর্যস্ত।

রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন ও বিতাড়নে চীনের সরাসরি সমর্থন, নিজ দেশের মুসলিমদের জীবনযাত্রা বিভীষিকাময় করে তোলার মধ্য দিয়ে চীনের নতুন যে পরচয় দাঁড়াচ্ছে তাতে চীনকে কেবল ইজরাইলের সাথেই তুলনা করা চলে।

তথ্য-বিশ্লেষণ-মন্তব্যের আগে যে কোনো বিষয়ের ভেতর-বাহির জানাটা জরুরি। উম্মাহর হালত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই বিবেচনা বরং বিকল্পহীন। এ সংখ্যায় গবেষক ও দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট জিন এ বুনিনের বিস্তৃত এক আলোচনা সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরার প্রয়াস নিলাম। প্রায় আঠার মাস তিনি পুরো চীন চষে বেড়িয়েছেন উইঘুর রেস্টুরেন্টকর্মীদের সাথে কথা বলতে। (সাধারণ সব পেশায় উইঘুর মুসলিমেরা চীনে সমাদৃত নন। সস্তা শ্রমিক, বাসা বা রেস্টুরেন্টকর্মী এবং ফেরিওয়ালা হিসেবেই জিনজিয়াংয়ের বাইরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।) তার এসব আলাপনে উঠে এসেছে চীনের সংখ্যালঘু মুসলিমেরা প্রতিনিয়ত গ্রেফতারি এবং সাংশোধন বা পুন:শিক্ষা নামের তথাকথিত ক্যাম্পগুলোতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয় নিয়ে কীভাবে জীবনযাপন করেন। আলোচনার প্রথমাংশ থাকলো এ পর্বে।

চীনের সংখ্যালঘু মুসলিম: দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট জিন এ বুনিনের গোপন মিশন

বুনিন লেখেন- প্রায় একবছর আগে আমি করিমের রেস্টুরেন্টে এসেছিলাম। চীনের আদিবাসী জাতিগুলোর খাবার আইটেমগুলো তালিকাভুক্ত করার যে প্রকল্পটি চলছিলো, তা নিয়ে লিখতেই মূলত যাওয়া। ততোদিনে উইঘুর জাতিগোষ্ঠী নিয়ে আমার গবেষণার প্রায় এক দশক ব্যয়ীত হয়ে গেছে। মূল গবেষণাকর্মের বাইরে এই খাদ্যতালিকা তৈরির প্রকল্পটি ছিলো বিশেষ একটি মজার কাজ। কিংবা এটিকে একটি গোপন মিশনও বলা যেতে পার। কারণ, উইঘুররা মূলত চীনের একেবারে পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত জিনজিয়াং প্রদেশের অধিবাসী। যেটা স্বায়ত্বশাসিত এবং সাধারণ চীনাদের কাছে একরকম বিদেশ হিসেবেই পরিগণিত।

আাম চীনের প্রধান কয়েকটা শহর সাংহাই, বেইজিং বা গোয়াংঝো’র রেস্তোরাগুলোতে যখন উইঘুরদের সাথে কথা বলছিলাম, সেটা গোপন মিশনের চেয়ে কম কিছু ছিলো না। জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের প্রধান প্রদিদ্বন্দ্বী হলো হান জাতি, এইসব শহরে যাদের উপস্থিতি ও বসবাস প্রায় ৯০%!

চীনের ৫০টি শহরের প্রায় ২০০ রেস্তোরায় পরিদর্শনের সময়ে করিমর কথা আমার বিশেষভাবে মনে ছিলো। ঐতিহ্যবাহী পাইলও ভাত এবং হাতে টানা বিশেষ প্রকারের নুডলস আমি করিমের কাছেই পেয়েছিলাম- যা সেন্ট্রাল এশিয়ান খাদ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত উইঘুরদের একটি স্পেশাল ডিশ। করিমের রেস্তোরা ডিশটি দারুণভাবে বানাতে পেরেছিলো। তারচে বড় কথা সেখানে আমি উইঘুর জাতির খাঁটি পরিবেশ পেয়েছিলাম। যে কারণে প্রথমবার খাওয়ার পরও এক বা দুই ঘন্টা সময় বেশি কাটিয়ে এসেছিলাম। করিম সবকিছু গোছালোভাবে পরিচালনা করছিলেন। তার সহকর্মীরা নিজেদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়ার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একরকম উদ্দীপনা এবং আনন্দের পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি তারা নিজেদের আক্ষেপ ও উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলছিলেন।

আমার একবারের পরিদর্শনের সময় সাধারণ আলোচনাটি হান জাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় তাদের ব ণা সংক্রান্ত সিরিয়াস আলোচনায় মোড় নেয়। উপস্থিত কর্মী ও বিভিন্ন উইঘুর কাস্টমার বলছিলেন উইঘুর পরিচয় জেনে স্থানীয় হোটেলগুলো কীভাবে তাদের কাছে হোটেল কক্ষ ভাড়া দিতে অস্বীকার করে। একজন মজা করেই বললো- শুধু আমরা তো না, উইঘুর এজন পুলিশকেও সেদিন রুম দিতে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এশিয়ান হয়েও দেখতে অনেকটা মধ্যপ্রাচ্যের মতো হওয়ায় এবং অনর্গল ইংলিশ বলার সক্ষমতা দিয়ে অনেক সময় করিমও হোটেল রুম বুকিংয়ের প্রাথমিক অনুমোদন পেতেন। কিন্তু চীনা জাতীয় পরিচয়পত্রে তার উইঘুর পরিচিতি দেখামাত্র তাদের চেহারা বদলে যেতো। অস্বীকৃতি জানাতো রুম ভাড়া দিতে।

সামনের আলোচনায় দ্রুতই পরিষ্কার হবে- বড় মনে হওয়া এমন সমস্যা উইঘুরদের জন্য সামান্যই ছিলো। করিম বলছিলো- ২০১৭ সালের শীতের কথা। যখন তার দেশের বাড়ি, ১ কোটির বেশি মুসলিমের বসতি সম্বলিত জিনজিয়াংকে সামনে রেখে চীন সরকার ঘোষণা করলো সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদবিরোধী সর্বাত্মক প্রতিরোধ কার্যক্রম। তিব্বতে কঠোর দমনাভিযান পরিচালনার জন্য খ্যাত চেন কুয়াংকুকে জিনজিয়াংয়ের পার্টি সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগের পরপরই তিনি কঠোর অভিযান শুরু করেন। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার বিপরীতে সরকার এটিকে যখন শৃংখলা ফেরানোর অভিযান বলছিলো, সমালোচকরা একে সরাসরি আখ্যায়িত করছিলেন উইঘুর পরিচিতি নিশ্চিন্হ করার মিশিন হিসেবে। বাস্তবেও সেটা শেষ পর্যন্ত তেমন পরিবেশই ডেকে এনেছিলো।

মাত্র এক বছরের মাথায় চেনের কঠোরতম দমনাভিযানের মধ্য দিয়ে জিনজিয়াং একটি কুখ্যাত পুলিশ অধ্যুষিত প্রদেশে পরিণত হয়। হাজারো উইঘুর মুসলিম তখন বিশেষ ক্যাম্পগুলোতে আটকা পড়েন, সরকার যেগুলোকে বলছে যথোচিত শিক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিবর্তিত করার কথা। বাকি হাজার হাজার লোককে তখন সরাসরি কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে বা তারা চিরতরে গুম হয়ে গিয়েছেন। ডিটেনশন ক্যাম্পের ভেতরে থাকা লোকজনের কাছ থেকে নানাভাবে জানা গেছে যে তাদেরকে শুধু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে তাই নয়, বরং নিয়মিতই চালানো হচ্ছে অত্যাচার। নানারকম শারীরিক ও মানসিক। ভারি শিল্পের শ্রমিক হিসেবে খাটানো হচ্ছে। সইতে না পেরে অনেকের জীবনও চলে যাচ্ছে। জিনজিয়াং ও উইঘুর নিয়ে তিন দশক ধরে গবেষণা করা সাংবাদিক ও কলামিস্ট জেমস এ মিলওয়ার্ড গত ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক টাইমসের এক কলামে লেখেন- ২০১৭ সালে জিনজিয়াং যে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে অতীতে আর কখানো এমনটা হয়নি।

বেশিরভাগ উইঘুরদের জন্যই শেষ বসন্তকালটি তাদের বিপর্যস্ত সময়ের সূচনাকাল হিসেবে আখ্যায়িত হবে। বিপর্যয় তাদের অধিকারে, জীবিকায় এমনকি পরিচয় নিয়েও। অনেকে তো জীবনটাও হারিয়েছেন। করিমের মতো লোক যারা বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে নানা কারণে কিছু সময় অবস্থান করেছেন, তারাই প্রাথমিকভাবে তথাকথিত উগ্রবাদী হিসেবে চিন্হিত হয়েছেন। হচ্ছেন। একবছর পর আবার যখন আমি করিমের হোটেলে গেলাম, তার এক প্রতিবেশি জানালেন করিমেরও একই পরিণতি হয়েছে। তাকে জেলে নিক্ষিপ্ত হতে হয়েছে। প্রচ- নির্যাতন এবং ভারি শ্রমের ধকল সইতে না পেরে এক পর্যায়ে করিম মারা গেছেন।

রাজনৈতিকভাবে আপনি এভাবেই হয়তো বলবেন। বাস্তবতা হলো- করিম রাষ্ট্র কর্তৃক খুন হয়েছেন।

জিনজিয়াং বিষয়ে যে কোনোরকম সমালোচনা নিষিদ্ধ

চীন জিনজিয়াং বিষয়ে যে কোনোরকম সমালোচনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। গত গ্রীষ্মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হু চুনাইং ঘোষণা দিয়েছেন- জিনজিয়াং এর প্রতি সমবেদনা দেখানো অন্যায় এবং এই অভিযানের সমালোচনা করাটা চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। জিনজিয়াংয়ের বিদেশ বিষয়ক প্রচার পরিচালক আইলিতি সালিয়েভ তো আগ বাড়িয়ে দাবি করেছেন- জিনজিয়াংয়ে পৃথিবীর সবচে সুখী মুসলিমদের বসবাস!
উইঘুর মুসলিমদের সাথে কথা বললে হয়তো সবচে ভালোভাবে তাদের প্রকৃত অবস্থা জানা যেতো। কিন্তু সে পরিবেশ নেই। উইঘুররা বহিরাগত কারো সাথে কথা বলতে পারেন না। তাদের কাছে হয়তো তাদের নিজেদেরই আওয়াজ পৌঁছে না।

বিদেশী সাংবাদিকের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের কোনো সুযোগই ছিলো না

আমি বেশ অনেকজন বিদেশী সাংবাদিকের সাথে কথা বলেছি যারা জিনজিয়াংয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছিলোন। তারা সরাসরি আমাকে বলেছেন- বহু চেষ্টার প্রবেশের অনুমোদন পেলেও স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের কোনো সুযোগই তাদের ছিলো না। প্রত্যেকটা স্টেশন, চৌকিতে এমনকি রাস্তার মোড়ে মোড়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সারাক্ষণ কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কখনো উইঘুরদের সাক্ষাৎ পেলেও কথা বলতে পারেন নি। ভয়ে অনেক উইঘুর মুসলিমই মুখ খুলতে রাজি হয়নি। যাদের আত্মীয়রা কেউ বিদেশে আছে, বা নেট বা মোবাইলে কেউ দেশের বাইরে কথা বলেছে বা যোগাযোগ করেছে জানতে পারলেই তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পুলিসরা উইঘুরদের আখ্যায়িত করে ‘খারাপ জিনজিয়াং মানুষ’ হিসেবে।

যাই হোক, আমার ভাষাগত গবেষণা এবং খাদ্য তালিকা তৈরির প্রয়োজনে আমি ১৮ মাসের সেরা অংশটি জিনজিয়াংয়ের লোকজন এবং সাংহাইয়ের অভ্যন্তরেই খারাপ জিনজিয়াং জনগণের সাথে অতিবাহিত করেছিলাম। সেসময়, আমি শত শত উইঘুর মুসলিমের সাথে কথা বলতাম, তাদের অধিকাংশই পুরুষ রেস্টুরেন্টের কর্মী, ব্যবসায়ী, ছোট-বড় মোদী দোকানদার ছিলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলিনি। তারপরও না চাইলেও তাদের আলোচনায় নানাভাবে প্রসঙ্গ উঠে আসতো। তাদের পরিস্থিতির ভয়াবহতা আমাকে কাঁপিয়ে দিতো।

কীভাবে এই জুলুমের বিপরীতে কথা বলা শুরু করবেন

আঠার মাসে আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে কেবল এটুকুই বলা যায়- জিনজিয়াং নিয়ে কথা বলার মতো যোগ্য আমরা কেউই নই। তারাই কেবল তাদের প্রকৃত হালত তুলে ধরতে পারবেন। একইভাবে, তারা কীভাবে এই জুলুমের বিপরীতে কথা বলা শুরু করবেন নাকি এভাবেই সব চলবে- সে সিদ্ধান্তও তাদেরকেই নিতে হবে।
আমি শুধু সেখানকার পরিস্থিতির কিঞ্চিৎ আলোকপাত করতে চেয়েছি। বিশ্ব বাকিটা বুঝে নিক।’

মূল আলোচনা- জিন এ বুনিন। অনুবাদ, সংক্ষেপন ও সংযোজন- শাকিল আদনান

Monthly Neyamat, 10/06/2019

Leave a Reply